• +8801742069354
  • environmenttalkbd@gmail.com
যে ৬ টি কারণে অবশ্যই ম্যানগ্রোভ বন রক্ষা করা উচিত

ম্যানগ্রোভ বন উপকূলীয় অঞ্চলে বসবাসরত মানুষের জীওবনযাপনে ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অসামান্য অবদান রাখে। তারপরেও সারাবিশ্বে ম্যানগ্রোভ বন এখন হুমকির মুখে। ইউনাইটেড নেশন এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রাম এর রিপোর্ট অনুযায়ী, সারাবিশ্বে স্থল বনাঞ্চলের চেয়ে ম্যানগ্রোভ বন ৩-৫ গুণ দ্রুত বিনাশ করা হচ্ছে এবং প্রতিবছর এই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

বন ধ্বংসের পেছনে প্রধান নিয়ামকগুলো হলো কৃষিকাজ, শিল্পউন্নয়ন ও অবকাঠামোগত প্রকল্প। এর সাথে এখন যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ দূষণ এর প্রভাব। এছাড়াও আসবাব ও জ্বালানির জন্য অতিরিক্ত কাঠ সংগ্রহ, অতিরিক্ত বাধ, কৃষিকাজের জন্য ম্যানগ্রোভে পানির অভাব অথবা অতিরিক্ত মাছ সংগ্রহ ম্যানগ্রোভের  জীববৈচিত্র্য ও খাদ্যশৃঙ্খলে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে।

যে ৬ টি কারণে অবশ্যই ম্যানগ্রোভ বন রক্ষা করা উচিত-

১) ম্যানগ্রোভ বন প্রাকৃতিকভাবে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রতিরক্ষা দেয়

ম্যানগ্রোভে গাছের বলিষ্ঠ মূলগুলো বন্যা ও ঝড়ের তীব্রতা কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও বনের গাছ ও মূলগুলো পলিমাটি আটকাতে সাহায্য করে যা পরবর্তীতে মাটির ক্ষয় কমায়। এসব অতিরিক্ত পলিমাটি সামুদ্রিক প্রবাল এর জন্যও অত্যন্ত ক্ষতিকর।

২০১৭ সালে ইউনাইটেড নেশন ওশান কনফারেন্স এর তথ্য অনু্যায়ী প্রায় ২.৪ বিলিয়ন জনগণ উপকূলের ১০০ কিলোমিটার এর মধ্যে বসবাস করে । এদের প্রতিরক্ষাতে ম্যানগ্রোভের অবদান অনস্বীকার্য। জলবায়ু পরিবর্তন এর ফলস্বরূপ বিভিন্ন প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও সমুদ্রের উচ্চতাবৃদ্ধি এর ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে ম্যানগ্রোভ বনের প্রতিরক্ষা অবশ্যই প্রয়োজন।

২) কার্বন সংরক্ষণ করে

ম্যানগ্রোভ বন বায়ুমন্ডলের কার্বন ডাই অক্সাইড সংরক্ষণ করে বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। ম্যানগ্রোভের গাছগুলো মারা গেলে তাদের পাতা, মূল, কান্ড জোয়ারের পানির নিচে চলে যায় এবং পলিমাটি দ্বারা ঢেকে যায়। অক্সিজেনের অপ্রাপ্যতার জন্য গাছের জৈবিক উপাদানগুলো বি্যোজিত হয় না। ফলে কার্বন নির্গমন কম হয়।

গবেষণায় দেখা যায় যে, উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বনের কার্বন সংরক্ষণ ক্ষমতা অন্যান্য বনের তুলনায় বেশি হয়।

ইউ এস ডি এ ফরেস্ট সার্ভিস (USDA Forest Service, Pacific Southeast Research Station) এর তথ্যমতে, ট্রপিকাল রেইনফরেস্ট এর চেয়ে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ২৫ টি ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলে চার গুণ বেশি কার্বন পাওয়া গেছে।

৩) জীবিকা প্রদান করে

ম্যানগ্রোভ বনে বা এর আশেপাশে যারা বসবাস করে, তাদের বেশিরভাগই জীবিকার জন্য ম্যানগ্রোভের ওপর নির্ভরশীল থাকে। ম্যানগ্রোভ উদ্ভিতগুলোর কাঠ কম পচনশীল ও পোকামাকড় এর বিরুদ্ধে টেকসই হওয়ায় তা ফার্নিচার, নির্মাণ কাজ ও জ্বালানির জন্য বেশ ভালো হয়। কোন কোন বনে অবশ্য বাণিজ্যিকভাবে কাঠ জাতীয় উদ্ভিত রোপণ করা হয় যা অনেকসময় টেকসই উন্নয়নকে ব্যহত করে। ঔষধি গুণ থাকায় ম্যানগ্রোভের কিছু গাছ ও পাতার নির্যাস সংগ্রহ করা হয়। ম্যানগ্রোভ বন থেকে খাঁটি মধুও সংগ্রহ করা হয়। বনে জলাধার থাকায় তা স্থানীয় জেলেদের মাছ এর যোগান দেয়।

৪) ইকোট্যুরিজম বাড়ায়

টেকসই ট্যুরিজম যেমন ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের সৌন্দর্য ধরে রাখতে সাহায্য করে, একইসাথে এলাকাবাসীর আয় বাড়াতেও সাহায্য করে। ম্যানগ্রোভ বন সাধারণত প্রবালদ্বীপ বা সমুদ্রপাড়ের পাশে হয়। ফলে খেলাধুলা, মাছধরা, কায়াকিং অথবা পশু-পাখি দেখা ইত্যাদি কার্যক্রমে প্রচুর পর্যটক আকৃষ্ট হয়।

৫) জীববৈচিত্র্য উন্নত হয়

মানুষের অসচেতনতা ও কান্ডজ্ঞানহীনতায় স্থলজ ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য এখন হুমকির মুখে এবং অনেক উদ্ভিত ও প্রাণী প্রজাতির অস্তিত্ব বিনাশের পথে। ম্যানগ্রোভ বন জটিল ও মিথস্ক্রিয় পদ্ধতিতে জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে । একইসাথে সুন্দর পরিবেশ ও বাস্তুসংস্থান এর নিশ্চয়তা দেয়।

৬) টেকসই উন্নয়নে সহায়তা করে

ম্যানগ্রোভ বন ইকোট্যুরিজম, মাছ সংগ্রহ, আসবাবপত্রের কাঁচামাল, চিংড়ি চাষ এর মাধ্যমে আর্থিক স্বচ্ছলতা প্রদান করে ও টেকসই উন্নয়নে সহায়তা করে।

তথ্যসূত্রঃ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম, ইউনাইটেড নেশন এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রাম, ইউনাইটেড নেশন ওশান কনফারেন্স, ইউ এস ডি এ ফরেস্ট সার্ভিস।

Image Source: Abdulla-abeedh/ Unsplash

Share:
.