• +8801742069354
  • environmenttalkbd@gmail.com
জলবায়ুর প্রভাব: বন্যায় ঘর হারাবে বছরে ৫ কোটি মানুষ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় বিভিন্ন দেশের সরকার এখনই ব্যবস্থা না নিলে শুধু বন্যার কারণে গৃহহীন হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সংখ্যা এ শতকের শেষ নাগাদ বছরে পাঁচ কোটি ছাড়িয়ে যাবে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকরা। অর্থাৎ, গত শতকের ১৯৭০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বন্যার কারণে বিশ্বে যে পরিমাণ মানুষ ঘরহারা হয়েছে, সেটি পাঁচগুণ বেড়ে যাবে। ওই সময়ে বছরে এক কোটি মানুষ গৃহহীন হত বন্যার কারণে। মঙ্গলবার মাদ্রিদে জাতিসংঘ আয়োজিত জলবায়ু বিষয়ক এক আলোচনায় জেনেভাভিত্তিক ‘ইন্টারনাল ডিসপ্লেসমেন্ট মনিটরিং সেন্টার’- আইডিএমসির গবেষক জাস্টিন জিনেত্তি বলেন, জনসংখ্যা সাথে সাথে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে বৃষ্টিপাত বেড়ে যাওয়া এবং দ্রুত বরফ গলতে থাকায় ঘন ঘন বড় ধরনের বন্যার কারণে এ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এই গবেষকের মতে, যে পরিমাণ মানুষের গৃহহীন হওয়ার শঙ্কার কথা বলা হচ্ছে, তার অর্ধেকই জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হবে। আর বাকি মানুষ ঘরহারা হবে জনসংখ্যার বাড়ার কারণে। আইডিএমসির হেড অব ডেটা অ্যান্ড অ্যানালাইসিস জিনেত্তি বলেছেন, পূর্বাভাসে ঝুঁকির যে চিত্রটি এসেছে, সেটিকে আংশিক বলা যেতে পারে। কিন্তু বন্যার কারণে স্থানচ্যুত অর্ধেকের বেশি মানুষই আসলে জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হবে, যে পরিস্থিতিকে তিনি বর্ণনা করেছেন ‘ভয়াবহ’ হিসেবে। “বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রার বৃদ্ধির হার এক দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখার যে পরিকল্পনা, বিভিন্ন দেশের সরকার যদি তা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেয়, তাহলে বন্যার কারণে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা বছরে দুই কোটিতে আটকে রাখা যেতে পরে,” বলেন জিনেত্তি। তিনি বলেন, “জলবায়ুর কারণে স্থানচ্যুতি বিশ্বের জন্য একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। আমাদের জন্য ভবিষ্যতে আবহাওয়ার আরও চরম অবস্থা বিরাজ করছে। সুতরাং ভবিষ্যৎ ঝুঁকির গুরুত্ব বোঝাটা আমাদের জন্য জরুরি- কেন এটা হচ্ছে, আমাদের কি করা উচিত।” ঝড়ের কারণে কত মানুষ ঘরহারা হতে পারে, সে ব্যাপারেও একটি আভাস দেওয়ার জন্য আইডিএমসির গবেষণার ক্ষেত্র আরও বাড়ানো হবে বলে জানান তিনি। আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা অক্সফাম সোমবার জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া এবং দাবানলের কারণে গত এক দশকে প্রতিবছর দুই কোটির বেশি মানুষ গৃহহীন হয়েছে। জলবায়ু হুমকি মোকাবেলায় বিশ্বনেতারা দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে সমস্যা আরও প্রকট আকার নেবে বলে জনিয়েছে সংস্থাটি।

Share:
.