• +8801742069354
  • environmenttalkbd@gmail.com
জলবায়ু শরণার্থী ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

বৈশ্বিক উষ্ণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পৃথিবীর সব দেশেই কমবেশি পড়ছে। এর ফলে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশ দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির সম্মুখীন হতে যাচ্ছে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় উত্তর মেরুর বরফ গলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে। ফলে বিশ্বের অনেক দেশের নিম্নভূমি পানির নিচে নিমজ্জিত হবে। এছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, খরা, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদিও ঘন ঘন সঙ্ঘটিত হচ্ছে।

সেখানে বসবাসকারী মানুষ হারাচ্ছে তাদের বাসস্থান । তাদের কৃষিজমি লবণাক্ত হয়ে চাষবাসের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ছে। ঐ নির্দিষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের মানুষ বেঁচে থাকার লক্ষ্যে, নতুন আশ্রয় লাভের আশায় অন্য জায়গায় বা অন্য দেশে স্থানান্তরিত হচ্ছে। সেখানে তারা বিবেচিত হয় শরণার্থী বা জলবায়ু শরণার্থী হিসেবে।

কপ সম্মেলন, ধরিত্রী সম্মেলন করেও বিশ্ব নেতাদের জলবায়ু পরিবর্তন রোধে খুব বৃহৎ অগ্রযাত্রা এখনো লক্ষ্য করা যায় নি, তারা মূলত প্রতিশ্রুতি দিইয়ে যাচ্ছে কিন্তু তার বাস্তবায়ন খুবই সীমিত।

ব্রিটেনের পত্রিকা ‘দ্য গার্ডিয়ান'-এর প্রকাশ করা এক নিবন্ধনের তথ্য অনুযায়ী আগামী ৫০ বছরে বিশ্বের প্রায় ১০০ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হবে৷

‘অ্যাসোসিয়েশন ফর ক্লাইমেট রেফিউজি'  এর তথ্য অনুযায়ী, ২১০০ সাল নাগাদ যদি এক মিটার সমুদ্রসমতলের উচ্চতা বেড়ে যায়, তাহলে বাংলাদেশের তিন মিলিয়ন হেক্টর জমি প্লাবিত হতে পারে। সম্প্রতি সন্দ্বীপ, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও টেকনাফের সমুদ্র উপকূলের ওপর গবেষণা করে গবেষকরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের উপকূলে প্রতিবছর ১৪ মিলিমিটার করে সমুদ্রের পানি বাড়ছে, যা খুবই আশংকাজনক।

২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বে ৪৫ জনের মধ্যে ১ জন জলবায়ু শরণার্থীতে পরিণত হবে৷ আর বাংলাদেশে সংখ্যাটা হবে প্রতি সাতজনে একজন৷ দেশের ১৭ ভাগ এলাকা বিলীন হয়ে যাবে সমুদ্রে। বাংলাদেশে প্রায় তিন কোটি মানুষ ঘরবাড়ি, ফসলি জমি হারিয়ে জলবায়ু শরণার্থীতে পরিণত হবে।

‘ইন্টারন্যাশনাল প্যানেল অন ক্লাইমেট’ চেঞ্জ এর তথ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের পর নদীর প্রবাহ নাটকীয়ভাবে পরিবর্তন হবে। ফলে এশিয়ায় পানি স্বল্পতা দেখা যাবে, ক্ষতিগ্রস্থ হবে প্রায় ১০০ কোটি মানুষ।

এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক এর তথ্যমতে, উষ্ণায়নের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সাল নাগাদ দক্ষিণ এশিয়ায় শষ্য উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে যাবে। এ অঞ্চলের প্রায় ১৫০ কোটির বেশি মানুষ সরাসরি পানি ও খাদ্য ঝুঁকিতে পড়বে। ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে যে, বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে এ শতকের শেষ নাগাদ বিশ্বে চাষাবাদ ২০ থেকে ৪০ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি  অর্থনীতিবিদদের নতুন গবেষণা অনুসারে বিশ্ব উষ্ণায়ন ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যকার ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেবে।

২০০৯ সালে বিশ্বব্যাংক বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ দিক চিহ্নিত করেছে। সেগুলো হলো- মরুকরণ, বন্যা, ঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং কৃষিক্ষেত্রে অধিকতর অনিশ্চয়তা। এগুলোর প্রতিটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণ ১২টি দেশের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সেই তালিকার ৫টি ভাগের একটিতে শীর্ষ ঝুঁকিপূর্ণসহ (বন্যা) ৩টিতে নাম আছে বাংলাদেশের (বন্যা, ঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি)। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বাংলাদেশ।

এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে না পারলে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশেরই ভবিষ্যতে ভয়াবহ সংকটের সম্মুখীন হতে হবে। এজন্য ভুলে যেতে হবে কাঁটাতারের বেড়ার ভেদাভেদ। প্রতিবেশী রাষ্ট্রসহ বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্রের সাথে সম্মিলিত পরিকল্পনা করে তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ সংকটের সমাধান করতে হবে।

তথ্যসূত্রঃ dw.com, NCTB-Geography and Environment Book.

Photo by Li-An Lim on Unsplash

Share:
.